চায়ের গ্রেড ও নাম সমূহ দেখুন

Share The Post

আপনি চা পান করেন অথবা চা পাতার ব্যবসা করেন। কিন্তুু কখনও কি ভেবেছেন চায়ের গ্রেড সমন্ধে?  আপনারা সাধারনত চা পান করার আগে ভাবেন ‘ চা পাতা পানিতে দিলে রং ছড়ায়, তারপর আমরা খাই’ আসলে সেটি যেমন সত্য ঠিক চা পাতার গ্রেড আরও অনেক বেশি সত্য ও এই গ্রেড তৈরি করার পিছনের কারিগরদের গল্প ও কষ্টগুলোও সত্য।

চা পাতার ব্যবসা অথবা চা পান করার আগে কখনও ভাবেন নি একজন টি টেকনোলজিস্ট ( টি-টেস্টার)  কতটা পরিশ্রম করে চায়ের কোয়ালিটি তৈরি করে থাকে। আবার চা বাগানের ও ফ্যাক্টরিতে কত ধরনের টেকনিক্যাল জ্ঞান দিয়ে চায়ের গ্রেড তৈরি করা হয়!  একদিন সারাদিন মাথা খাটিয়ে এর হিসেব বের করতে পারবেন না। কারন বিভিন্ন কোম্পানি তাদের ব্লেন্ডিং ফর্মূলা বের করে চায়ের বিভিন্ন গ্রেড ও স্বাদ তৈরি করে থাকে। আপনি কখনও চা পাতা দেখে চিনতে পারবেন না,  কিন্তুুু আপনি স্বাদ নিয়ে সঠিক চা পাতা নির্ণয় করতে পারবেন।

তবে এ কথা সত্য যে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য চা পাতাকে বিভিন্ন গ্রেডে ভাগ করা হয়ে থাকে। একটি গবেষনায় দেখা গেছে আমরা দৈনন্দিন ব্লাক টি ( রং চা)  বেশি খাই। সেই চা কে আমরা অর্থাডক্স বা সিটিসি ( ক্রাশ টিয়ার কার্ল)  পদ্ধতি অবলম্বনের পদ্ধতিতে চায়ের গ্রেডিং তৈরি করা হয়। আবার এই গ্রেডিং করা হয় চা পাতার সাইজের অনুসারে।  একটি পরিপক্ক পাতা থেকে চা তৈরি করা হয় যা সব থেকে দামি চা পাতা। মূলত চা পাতার স্বাদ আকৃষ্ট করে ক্যাফেইন এর উপর নির্ভর করে। কেউ কড়া চা খেতে পছন্দ করে আবার কেউ স্মোথ চা খেতে পছন্দ করে। বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন রকমের চা পছন্দ করে যা ব্লেন্ডিং এর খেলায় তৈরি করে একজন এক্সপার্ট টি টেস্টার।

আমরা এই লেখাটি শুধুমাত্র চা পাতার গ্রেড এর উপর লিখব। তবে আপনাদের মাথায় প্রথম অবস্থায় নাও ঠুকতে পারে। কারন চায়ের গ্রেড অনেক ধরনের হয়ে থাকে। লেখাটি বার বার পড়লে হয়তো চা পাতার গ্রেড সমন্ধে ধারনা হবে। একটি চা গাছের সব থেকে কচি পাতার থেকে শুরু হয় চা এর গ্রেড। এগুলো নির্ণয় করে উক্ত চা বাগানের কর্মকর্তারা। তারা সাধারনত ৪ টি গ্রেড এ চা পাতাকে সাজিয়ে নেয়। তা হলঃ

  • সম্পূর্ণ পাতার চা Whole leaf tea
  • আংশিক ছেঁড়া পাতার চা Broken-leaf tea
  • অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ছেঁড়া যা Poke Fannings নামে পরিচিত
  • গুড়া বা (Dust) ডাস্ট চা

উপরক্ত চার ক্যাটাগরিতে চা পাতার উৎপাদনে চায়ের গ্রেড তৈরি করে চা বাগানের ফ্যাক্টরির মেশিনের মাধ্যমে।  তাহলে এবার আমরা দেখে নিব উপরের চায়ের গ্রেডের সাথে সেই নামগুলো দেওয়ার কারনগুলো কি কি।

১.সম্পূর্ণ পাতার চা Whole leaf tea:

  • FTGFOP1 – Fine Tippy Golden Flowery Orange Pekoe Grade 1
  • FTGFOP – Fine Tippy Golden Flowery Orange Pekoe
  • TGFOP – Tippy Golden Flowery Orange Pekoe
  • TGFOP1 – Tippy Golden Flowery Orange Pekoe Grade One
  • GFOP – Golden Flowery Orange Pekoe
  • FOP – Flowery Orange Pekoe
  • OP – Orange Pekoe
  • OPA – Orange Pekoe A
  • FP – Flowery Pekoe
  • P – Pekoe
  • S – Souchong

২. আংশিক ছেঁড়া পাতার চা Broken-leaf tea:

  • BOP1 – Broken Orange Pekoe One
  • GFBOP – Golden Flowery Broken Orange Pekoe
  • TGFBOP – Tippy Golden Flowery Broken Orange Pekoe
  • TGFBOP1 – Tippy Golden Flowery Broken Orange Pekoe Grade One
  • BS – Broken Souchong
  • BPS – Broken Pekoe Souchong
  • GBOP – Golden Broken Orange Pekoe
  • FBOP – Flowery Broken Orange Pekoe
  • BOP – Broken Orange Pekoe

৩.অপেক্ষাকৃত বেশি অংশ ছেঁড়া যা Fannings নামে পরিচিত

  • GOF – Golden Orange Fannings
  • FOF – Flowery Orange Fannings
  • BOPF – Broken Orange Pekoe Fannings
  • FBOPF – Flowery Broken Orange Pekoe Fannings

৪.গুড়া বা (Dust) ডাস্ট চা

  • OPD – Orange Pekoe Dust
  • BOPD – Broken Orange Pekoe Dust
  • BOPFD – Broken Orange Pekoe Fine Dust
  • FD – Fine Dust
  • D-A – Dust A
  • Spl. D – Special Dust
  • GD – Golden Dust
  • OD – Orthodox Dust

এগুলো নাম হলেও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও বাসা বাড়ির জন্য বিভিন্ন রকম চা মার্করটিং করা হয়। উল্ল্যেখ যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকমের চা চলে। কোথাও চায়ের কাপের উপরে ছাঁকনী দিয়ে তার উপরের ক্যাটলির পানি দিয়ে চা তৈরি করা হয়। আবার কোথাও ক্যাটলির গরম পানিতে চা ঢেলে দিয়ে জাল দিয়ে চা তৈরি করে বিক্রি করে। আবার কোথাও শুধু গরম পানি চায়ের কাপে দিয়ে তার উপর চা দেয় এবং চায়ের রং ছড়ায়। এগুলো চায়ের বিজনেস কালচারের কারনে হয়ে থাকে।

এবার দেখুন চায়ের গ্রেডিং ও টেকসই

চা বাজারজাত করার সময় অনেক কিছু জানতে হয় ও বুঝতে হয়। আপনাকে এসব অবশ্যই জানতে হবে। না হলে আপনি চা পাতার ব্যবসা করতে পারবেন না। আর এইসব চায়ের গ্রেডিং করে থাকে একজন চা মোড়কীকরন কোম্পানির টি টেষ্টার। কোন দোকানি কেমন চা চায় মুলত সেগুলোর উপর নির্ভর করে এই টি টেষ্টাররা চা তৈরি করে থাকে। কেউ চায় চায়ের লিকার ভাল হোক ও অনেক সময় স্ট্রং থাকুক। কেউ চায় তাদের চা কষ যুক্ত হোক।  আসলে এসব কিছুই নির্ভর করে টি টেষ্টারের উপর। তারা মার্কেট অনুযায়ী তেমন চা তৈরি করে দেয়। এখন দেখুন বাংলাদেশে সব থেকে বেশি কোন গ্রেডের চা চলে ও সাইজ কেমন। নিম্নে সব থেকে বড় দানা থেকে শুরু করে পাউডার জাতীয় চায়ের নাম ক্রামানুশারে দেওয়া হল।

  • FBOP এফবিওপি – Flowery Broken Orange Pekoe
  • BOF বিওএফ
  • BOP বিপি – Broken Orange Pekoe
  • GBOP জিবিওপি – Golden Broken Orange Pekoe
  • DM ডিএম – Dayer Mouth
  • OF ওএফ – Orange Fannings
  • GOF জিওএফ – Golden Orange
  • PF পিএফ- Pekoe Fannings
  • PD পিডি- Pekoe Dust
  • RD আরডি – Read Dust
  • Dust ডাস্ট – Dust
  • CD সিডি – Churamoni Dust

উপরের চা পাতার সাইজ সবার উপরে বড় এবং সব শেষে ডাষ্ট চা পাতা দেওয়া হয়েছে। এখন আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে_ কোন চা পাতাটি ভাল?  আসলে উপরের সব চা পাতাই ভাল কিন্তুু বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য বিভিন্ন রকম চা চলে তাই ব্লেন্ডিং ও দাম নির্ভর করে আপনার এলাকার বাজার অনুযায়ী।  আপনার এলাকায় যতো দামে চা চলে তা একটি তোম্পানিকে বলে দিলে সেই দাম অনুযায়ী ব্লেন্ড করে দিবে। তবে বাসা বাড়ির জন্য সব থেকে খাওয়ার উপযুক্ত চা হল BOP,GBOP ও PD চা পাতা।

আবার দাম নিয়েও আপনাদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে উপরের চা পাতার মধ্যে সব থেকে দামি চা পাতা কোনটি?  এগুলো নির্ভর করে বাগানের উপর।  কোন বাগানের চায়ের দাম হয়ে থাকে ২০০/- টাকা আবার কোন বাগানের চায়ের দাম হয়ে থাকে ৪০০/- টাকা প্লাস। কিন্তুু সব বাগানেই উপরের গ্রেডের চা পাতা তৈরি করা হয়।

আপনি যদি চা পাতা নিয়ে ব্যবসা করেন

আপনি যদি চা পাতা নিয়ে ব্যবসা করতে চান তাহলে হুট করেই এই ব্যবসায় নামবেন না। বর্তমানে নতুন নতুন উদ্যোক্তারা কোন কিছুই না জেনে শুনে চা পাতার ব্যবসায় নেমে পড়ে।  আসলে এটি একদম ঠিক না। আপনাকে ব্যবসা করতে হলে কোন কোম্পানি থেকে চা নিবেন তা ভাল করে জেনে নিবেন তাদের কোম্পানির পলিসি, গ্রেডিং পদ্ধতি ও ম্যানেজম্যন্ট সমন্ধে। তারা কি ভাল ব্লেন্ডিং করতে জানে নাকি জানে না এগুলো অবশ্যই জানবেন। আর লোভনীয় অফারের দিকে কখনও পা দিবেন না, তাহলে আপনি ঠকে যাবেন। আপনি যেখানেই ব্যবসা করতে যাচ্ছেন না কেন সব কিছু দেখে শুনে বুঝে যাবেন। আর আমাদের সাথে ব্যবসা করতে চাইলে আপনাকে ‘স্বাগতম’ যদি সেই এলাকায় আমরা অন্য কাউকে চা দিয়ে না থাকি। আর যদি সেই এলাকায় আমাদের চা চলে তারপরেও আমাদের থেকে পরামর্শ নিতে পারবেন চা পাতা সমন্ধে। যেহেতু আমরা এক এলাকায় আমাদের চা পাতার ডিলার দিলে অন্য কাউকে ডিলার দেই না।

তাহলে আজ এ পর্যন্তই থাকলো, আশাকরি আপনি চা পাতার গ্রেড সমন্ধে কিছু আইডিয়া হয়েছে। আর আপনার যদি কোন পরামর্শ ও বলার থাকে তাহলে কমেন্ট বক্স এ কমেন্ট করে জানাবেন।

Facebook Comments Box

Share The Post

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart