চা-পাতার-লাইসেন্স

চা পাতার লাইসেন্স করার সহজ নিয়ম

Share The Post

খুচরা ও পাইকারি লাইসেন্স

আপনি যদি চা পাতা কিনে আপনার এলাকায় চা পাতা খুচরা ও পাইকারি বিক্রয় করতে চান তাহলে বাংলাদেশ চা বোর্ড থেকে খুচরা ও পাইকারি চা লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। এই লাইসেন্স নেওয়ার জন্য আপনাকে আপনার ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় পরিচয়পত্র, আইডি কার্ডের নাম্বার, আপনার দোকানের ঠিকানা, আপনার গোডাউনের ঠিকানা, আপনার মোবাইল নাম্বার, আপনার ই-মেইল এড্রেস, আপনার এককপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি ও একটি সাক্ষর লাগবে। আবেদনের সময় ২৫০০/- টাকা সহ আবেদন করতে হবে। যদি বাংলাদেশ চা বোর্ড মনে করে সব ঠিক আছে তাহলে আপনাকে লাইসেন্স প্রদান করবে। আর যদি মনে করে ঠিক নেই তাহলে আপনার আবেদনটি গ্রহন করবে না। এটি প্রতিবছরে জুন/জুলাইয়ে নবায়ন করতে হবে।

বিটার লাইসেন্স

এর পরের লাইসেন্স হলো বিটার লাইসেন্স। আপনি যদি চা পাতার অকশন থেকে চা বাগানের পাতা বিট করতে চান তাহলে আপনাকে বিটার লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। আর এই বিটার লাইসেন্সের আবেদন করার জন্য আপনাকে চা পাতার খুচরা ও পাইকারি লাইসেন্স নিতে যে সব কাগজ চা বোর্ড এ জমা দিয়েছেন তার সাথে সেই প্রাপ্ত লাইসেন্সটি যোগ করে দিবেন। এবং সাথে দশ হাজার টাকা চা বোর্ড কে দিতে হবে। সব ঠিক থাকলে আপনি এই লাইসেন্স ৭ দিনের মধ্যে পাবেন। আর বছরে জুন/জুলাইয়ে রিনিও করতে হবে। এখন আপনি চায়ের নিলাম কেন্দ্র থেকে চা নিলামে ক্রয় করতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে শতকরা ১৫% সরকারি কর ( ভ্যাট ট্যাক্স) ও টি ওয়্যার হাউজকে ১%  দিতে হবে।

ব্লেন্ডার লাইসেন্স

এবার আপনি এসে গেছেন ব্লেন্ডার লাইসেন্স এর উপর। আপনি যদি চা পাতার প্যাকেট করে বাজারজাত করতে চান তাহলে আপনাকে ব্লেন্ডার লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। আর এই লাইসেন্স করতে গেলে আপনাকে খুচরা ও পাইকারি লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যে সকল কাগজ দিয়েছিলেন সেই সকল কাগজ দিতে হবে। সাথে যোগ করতে হবে খুচরা ও পাইকারি লাইসেন্স, বিটার লাইসেন্স, ব্যাংক সচ্ছলতার সার্টিফিকেট, আপনার টি টেস্টারের বায়োডাটা, বিএসটিআই লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক লাইসেন্স সহ বিশ হাজার টাকা। চা বোর্ড সব কিছু দেখে যদি মনে করে আপনি ব্লেন্ডার লাইসেন্স পাওয়া যোগ্য তাহলে আপনাকে লাইসেন্স দিবে।

ব্রোকার লাইসেন্স

আপনি এখন ব্রোকার এর লেভেল এ এসেছেন। আপনি যদি ব্রোকার লাইসেন্স নিতে চান তাহলে আপনাকে আরও কিছু কাজ করতে হবে। আপনি যেমন করে পাইকারি ও খুচরা চা পাতার আবেদন নিয়েছেন ঠিক সেই কাগজগুলোর সাথে আপনাকে আরও কিছু এ্যাড করে দিতে হবে। সেগুলো হলো আপনার কোম্পানীর নাম, আপনার কোম্পানীর কর্মকর্তার পরিধি, আপনার কোম্পানিরর গঠনকাল, আপনার কোম্পানির পরিচালকের সংখ্যা, আপনার ভ্যাট টিন নাম্বার ও এর সাথে ২৫০০০.০০/- টাকা জমা দিতে হবে। আপনার সব কিছু ঠিক থাকলে আপনি ব্রোকার। ব্রোকার মানে কি সেটা আপনি নিশ্চয়ই বুঝে গেছেন।

বাগান থেকে চা বিক্রয়ের লাইসেন্স

এটা আপনার জন্য নয়। তবুও দিতেছি কারন আপনি এখন চা ব্যবসা করা গুরু করলেও একদিন বাগানের মালিক হতে পারেন। যদি উপরওয়ালা চায়। আর একজন বাগানের মালিক চা পাতা নিলামকেন্দ্রে বিক্রি করার জন্য যে সব কিছু দিয়ে লাইসেন্স গ্রহন করে সেগুলো হল- বাগানের নাম, বাগানের ঠিকানা, মালিকের নাম, মালিকের ঠিনাকা, জমির সকল দলিল পত্র, পর্চা সহ আপনার মোবাইল নাম্বার। তবে এ জন্য আপনাকে আপাতত পে করতে হবে না। বাংলাদেশ চা বোর্ড সব কিছু দেখাশুনা করে তারপর আপনাকে এই লাইসেন্সটি প্রদান করবে।

চা রপ্তানিকারক লাইসেন্স

সব কিছুই তো করলেন, এমনকি এই পর্যন্ত বাগানের মালিকও হয়েছেন। এবার পালা আপনাকে আপনার বাগানের বা চা নিলাম কেন্দ্র থেকে চা কিনে তা বিদেশে বিক্রি করার। এবার আপনাকে পায় কে? তবে এমনটি করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। আর লাইসেন্স গ্রহন করার জন্য আপনাকে যেসব কাগজ লাগবে তা হলো- আপনার নাম, আপনার ঠিকানা, ট্রেড লাইসেন্স, রপ্তানি নিবন্ধনের প্রত্যায়ন পত্র, ভ্যাট সনদ ও আবেদনকারীর সাক্ষর। যদি চা বোর্ড মনে করে আপনি সব কিছু ঠিক আছেন তাহলে আপনি এই লাইসেন্সটি গ্রহন করতে পারবে। আর অবশ্যই সব লাইসেন্সের নীতিমালার মত এই লাইসেন্সের নীতিমালা পড়ে আবেদন করবেন।

চা পাতা আমদানিকারক লাইসেন্স

আপনি সব কিছু করলেন ভাল কথা, নিজের দেশে চায়ের ব্যবসা করলেন, কোম্পানী দিলেন, চায়ের বাগানের মালিক হলেন, চা বিশ্বের অন্য দেশে বিক্রি করলেন। এবার অন্য দেশের চা খেয়ে দেখতে হবে আপনাকে। খেয়ে যদি মান ভাল পেয়ে যান তাহলে আপনি ব্যবসায় সেই চা কাজে লাগাতে পারেন। আর বাহিরের দেশের চা আপনি যদি ক্রয় করতে চান তাহলে আপনাকে আমদানিকারক লাইসেন্স নিতে হবে। আর লাইসেন্স নিতে গেলে আপনাকে বাংলাদেশ চা বোর্ড এ যে সব কাগজ জমা দিতে হবে তা হলো- আপনার ঠিকানা, গোডাউনের ঠিকানা, প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা, ব্লেন্ডোর লাইসেন্স নাম্বার, ব্লেন্ডার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, আমদানি নিবন্ধনের প্রত্যয়নপত্র, আয়কর সনদ ও আপনার সাক্ষর সহ আবেদনটি করতে পারেন বাংলাদেশ চা বোর্ড যদি সব কিছু ঠিক থাকে তাহলে আপনি চা বোর্ড থেকে এই লাইসেন্সটি পাবেন।

এতো সময় ধরে অনেক লিখলাম। জানি না কতটুকু তথ্যগুলো পৌছে দিতে পেরেছি। তবে যাই কিছু হোকনা কেন আমি আপনাদের হাজারপতি, কোম্পানির মালিক, লাখপতি, কোটিপতি সহ সব কিছু বানানোর স্বপ্ন দেখিয়েছি। তবে যদি কেউ কোটিপতি হন অবশ্যই আমার মত ছোট ভাইটাকে একটু দেখবেন এই কামনাই রইল। তবে যাইহোক আপনাকে চা পাতার ব্যবসা করতে গেলে পরিশ্রম করতে হবে। সরাকারি নীতিমালা অনুযোগী এই ব্যবসা করতে হবে। বাকিটা উপর ওয়াল উপর ভরসা।

শেষ কথা

তবে যদি কোন ভাই লাইসেন্স সমন্ধে না বুঝে থাকেন তাহলে আপনি আমাদের +8801713-426386 নাম্বারে ফোন দিবেন এবং আপনার কাগজপত্র [email protected] এ পাঠিয়ে দিবেন। আমরা আপনার লাইসেন্স করে দিবে। তবে ফ্রি না ভাই, চা বোর্ডের ফি- গুলো দিতে হবে। আজ এ পর্যন্ত, সামনে কোন চা পাতার ব্যবসার মার্কেটিং নিয়ে আলোচনা করব।

মোঃ সাইদুর রহমান
CEO
Rebnal Global Ltd.

 

Facebook Comments Box

Share The Post

4 thoughts on “চা পাতার লাইসেন্স করার সহজ নিয়ম”

  1. মোঃ মনিরুল ইসলাম

    ভাই বাংলাদেশ চা বোড যদি মনে করেন লাইসেন্স দেওয়া যাবে না তাহলে টাকা ফেরত পাওয়ার কোন অপসন আছে কি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Shopping Cart