চা গাছ

চা পাতার ব্যবসা হতে পারে কম পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা

Share The Post

কখনো কি ধোঁয়া ওঠা গরম চায়ের কাপে চুমুক দিতে গিয়ে ভেবেছেন যে, চা দিয়েও ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে? হ্যাঁ, করা যেতে পারে, যদি আপনার থাকে ধৈর্য্য আর পরিশ্রম করার সৎ মানসিকতা, তাহলে আপনার দ্বারাও এ ব্যবসায় ভালো করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।

আমাদের দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে সহজেই বোঝা যায় যে, চাকরির পিছনে দৌঁড়ানোর চেয়ে অনেক ভালো হবে একটা ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা করা। আর সেটা যদি হয় চা পাতার ব্যবসা, তাহলে আপনি তুলনামূলক কম খরচেই সেটা শুরু করতে পারেন। আর সেজন্য প্রয়োজন কিছু সঠিক দিক নির্দেশনা। এই লেখাটি থেকে আমরা জানতে পারবো চা ব্যবসার আদ্যোপান্ত।

কেন করবেন চা পাতার ব্যবসা?

প্রত্যেকটি ব্যবসা শুরু করার আগেই অনেক ভেবেচিন্তে শুরু করতে হয়। কেননা, কোনো ব্যবসাই ঝুঁকিমুক্ত নয়। এটি চা পাতার ব্যবসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তো চলুন জেনে নেয়া যাক, কী কী কারণে আপনি ব্যবসা করার জন্য বেছে নিবেন চা-কে।

১. চায়ের ব্যাপক চাহিদা

চা বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়। প্রত্যেক ঋতুতেই রয়েছে এর চাহিদা। আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, চা বাংলাদেশের শহর এবং গ্রামে সর্বত্র প্রচলিত। তাই আপনি দেশের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, আপনি চেষ্টা করলেই এ ব্যবসা করতে পারেন।

২. কম পুঁজি

অন্যান্য অনেক ব্যবসার তুলনায়ই চা ব্যবসায় পুঁজি লাগে অনেক কম। তাছাড়া ছোট পরিসরে ব্যবসা করতে গেলে ঝুঁকিটাও থাকে কম। যা আপনাকে চিন্তামুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।

৩. বিশাল ইন্ডাস্ট্রি

চা ব্যবসা এমন একটি ব্যবসা, যেখানে আপনি ছোট পরিসরে শুরু করলেও অনেক বড় পর্যায়ে যেতে পারেন তুলনামূলক সহজে। আপনি সততার সাথে মেধা ও শ্রমের যথাযথ প্রয়োগ ঘটালে অনেক ভালো কিছু আশা করতে পারেন এই ব্যবসা থেকে।

৪. বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি

যদি আপনি অনেক খুঁজেও চাকরি যোগাড় করতে না পারেন, সে ক্ষেত্রে আপনি হয়তো স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারেন এই চা ব্যবসা থেকে। তবে বেকাররাই যে কেবল এ ব্যবসা করবে, ব্যাপারটা তা নয়। আপনি প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারলে যেকোনো অবস্থান থেকেই শুরু করতে পারেন এই ব্যবসা।

কীভাবে শুরু করবেন চা পাতার ব্যবসা?

প্রত্যেকটি ব্যবসায়ই নামার আগে পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে নিতে হয়। চা ব্যবসার ক্ষেত্রেও অনেকগুলো ধাপ রয়েছে। আপনাকে এগুলো একে একে করতে হবে। তাহলে জেনে নেয়া যাক, সেই ধাপগুলো সম্পর্কে।

১. চা বোর্ড থেকে লাইসেন্স করা

আপনি বাংলাদেশে বৈধভাবে চা ব্যবসা করতে গেলে লাইসেন্স প্রয়োজন। আপনি যদি পাইকারি কিংবা খুচরা চা বিক্রেতা হলে চাইলে আপনার জন্য একটা লাইসেন্স প্রযোজ্য। এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজন হবে ২৫০০ টাকা, ছবি, ভোটার আইডি কার্ডসহ আনুষঙ্গিক কিছু জিনিস।

খুচরা ও পাইকারি লাইসেন্স ছাড়াও কিছু লাইসেন্স আছে। যেমন, চা পাতা কেনার জন্য অকশন বা নিলামে বিড করার জন্য প্রয়োজন বিডার লাইসেন্স, ব্লেন্ড করার জন্য ব্লেন্ডার লাইসেন্স ইত্যাদি। এছাড়াও রয়েছে পর্যায়ক্রমে আছে ব্রোকার লাইসেন্স, বাগান থেকে বিক্রয় লাইসেন্স, আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স। এগুলো হচ্ছে বড় পর্যায়ে ব্যবসার লাইসেন্স এবং এগুলোর জন্য খরচটাও বেশি। যাই হোক, আমরা আপাতত খুচরা ও পাইকারি বিক্রয়ের ব্যাপারেই আলোচনা করি

২. চা পাতা কেনা

সকল ব্যবসাতে দরকার পুঁজি। আর পুঁজি ব্যয় করতে হয় নির্দিষ্ট কিছু খাতে। খুচরা ও পাইকারি চা ব্যবসার ক্ষেত্রে আপনাকে বেশিরভাগ পুঁজিই ব্যয় করতে হবে কাঁচামাল কিনতে; অর্থাৎ চা পাতা কিনতে। তাই এই ধাপটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চা পাতা কেনার আগে আপনাকে চিনতে হবে চা পাতা। জানতে হবে কোন পাতার কী গুণাগুণ; কোন পাতার মান ভালো, আর কোন পাতার মান খারাপ।

চলুন, সংক্ষেপে জেনে নেই চা পাতা চেনার উপায়

  • পাতাগুলো একই মাপের যেন হয়। ছোট-বড় পাতা মিশ্রিত থাকলে সেই পাতার মান ভালো না।
  • পাতাগুলো যেন নরম থাকে। শুকনো মচমচে হলে চলবে না।
  • পাতাগুলো একটু লম্বাটে ও সরু হলে ভালো হবে। আঁকাবাঁকা পাতা পরিহার করুন।
  • গরম পানিতে ভেজালে ভালো পাতা উজ্জ্বল দেখায় এবং রংটাও ভালো দেয়।
  • স্বাদ বোঝার জন্য আপনাকে নিজে চেখে দেখার চেষ্টা করতে হবে।
  • আর গন্ধ বোঝার জন্য দুই হাতের তালুতে কিছু পাতা নিয়ে ঘষে শুঁকে দেখতে হবে সুগন্ধ পাওয়া যায় কিনা।

তো এই হচ্ছে প্রাথমিক ধারণা। আপনি সরাসরি কিনতে গেলে আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন। এ পর্যায়ে আমরা পাতার মান বোঝার জন্য চা পাতার গ্রেডিং সম্পর্কেও জানার চেষ্টা করবো।

চা-কে আমরা সাধারণত চারটা ভাগে ভাগ করতে পারি-

ক. সম্পূর্ণ পাতা বা হোল লীফ চা

খ. আংশিক ছেঁড়া পাতা বা ব্রোকেন লীফ চা

গ. বেশি ছেঁড়া পাতা বা ফ্যানিংস

ঘ. গুঁড়া বা ডাস্ট চা

এগুলোকে আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। সেগুলোই মূলত চা পাতার প্যাকেটে উল্লেখ করা থাকে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চা পাতার নাম হচ্ছে বিওপি, জিবিওপি চা, সিডি এবং সিডি ডাস্ট চা, ক্লোন চা, পি এফ চা এবং আরো অনেকগুলো। এগুলোই ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি এবং হোয়াইট টি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হয়ে বাজারে বিক্রি হয়।

আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আপনি কোনটার ব্যবসা করবেন। এ নিয়ে আসলে সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। সবচেয়ে ভালো হয়, কারো লেখার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আপনি নিজে আপনার এলাকার দোকানগুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখলে। তাহলে আপনি সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আর হ্যাঁ, চায়ের কষ, লিকার, সুগন্ধ, স্বাদ ইত্যাদি যাচাই করে নিবেন অবশ্যই।

কোথা থেকে কিনবেন চা পাতা?

চা পাতা কেনার জন্য বাংলাদেশে দুইটি জায়গায় অকশন বা নিলাম হয়। সিলেট ও চট্টগ্রামে। সবচেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ সিলেট চা পাতা। যাই হোক, এই অকশন অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চা বোর্ডের অধীনে। তবে নিলামে অংশগ্রহণের জন্য আপনার দরকার হবে বিডার লাইসেন্স।

শুরুর দিকে অকশন থেকে চা কেনার ঝুঁকি অনেক বেশি। কারণ, শুরুর দিকে আপনার চায়ের গুণগত মান ও চা বাজারের সম্পর্কে ধারণা কম থাকাটাই স্বাভাবিক। আপনি একবার ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললে আপনাকে হয়তো অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি ৫০ থেকে ১০০/২০০ কেজি চা অকশনের বিডারদের থেকে কিনে শুরু করতে পারেন আপনার ব্যবসা। এছাড়া হতে পারেন চা পাতার ডিলার। বিভিন্ন চা এর ব্র্যান্ড; যেমন: ইস্পাহানি মির্জাপুর, তাজা, ফিনলে, রেবনল ইত্যাদির ডিলারশিপ নিয়েও শুরু করতে পারেন খুচরা ব্যবসা। এক্ষেত্রে চা পাতার প্যাকেট আকারে চা বিক্রি করতে পারবেন, যেখানে একটা ব্র্যান্ডের ছোঁয়া থাকবে।

আপনি চা কেনার সময় ক্রয়কৃত চা তিনটা ভাগের জন্য কিনবেন। এক ভাগ মার্কেটে, এক ভাগ গুদামঘরে আর এক ভাগ যেকোনো দুর্যোগকালীন সময়ে আপনার চা সাপ্লাই সচল রাখার জন্য রাখতে হবে। ধরে নিচ্ছি, আপনি ২৮০টাকা/কেজি দরে চা কিনলেন। প্রত্যেকটা ভাগের জন্য যদি ৫০ কেজি রাখেন, তাহলে তিনভাগের জন্য: ৫০×৩=১৫০ কেজি চা কিনতে হবে। আর সেক্ষেত্রে আপনার খরচ হবে: ১৫০×২৮০=৪২,০০০ টাকা। তো এভাবে আপনার কমপক্ষে ৫০-৬০ হাজার টাকা মূলধন নিয়ে শুরু করা উচিত। আর এই সংখ্যাগুলো শুধু আপনাকে বোঝানোর জন্য বলা হয়েছে। আপনার সাধ্যমতো এর চেয়ে কম বা বেশি মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

চা পাতা কেনার সময় যা অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন-

মনে রাখবেন, আপনি যদিও সরাসরি কোনো গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করছেন না, তবে পরোক্ষভাবে আপনার ব্যবসা তাদের সন্তুষ্টির উপরে অনেকাংশে নির্ভরশীল। তাই তাদের দিকে নজর রেখে চা ক্রয় করবেন। বিখ্যাত সফটওয়্যার কোম্পানি এভারনোট এর প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “আমরা যখন কোনো প্রোডাক্ট তৈরি করি, সেটা আমাদের নিজেদের প্রয়োজনের কথা ভেবে তৈরি করি।” আর এটাই তাদের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।

আপনি হয়তো কোনো চা কিনলেন ২৮০টাকা/কেজি দরে। অথচ কেউ হয়তো ২৪০টাকা/কেজি দরে বিক্রি করছে। এই দুই চায়ের মান কিন্তু এক হবে না। সুদূরপ্রসারী দৃষ্টি রেখে ভালো গুণগত মানের চা ক্রয় করুন। আরেকটা কথা না বললেই নয়। দামি চা হলেই যে ভালো হবে, ব্যাপারটা কিন্তু তেমনও নয়। আপনার ভোক্তাদের সামর্থ্যের দিকেও দৃষ্টি দিতে হবে। যদি আপনি কম মূল্যে ভালো মানের চা পান, তাহলে কেন কিনবেন না?

চা পাতা বিক্রি

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সকল ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য হচ্ছে, নিজের পণ্যটি বিক্রি করা আর তা থেকে লাভ করা। এটা হতে পারে সহজ কিংবা খুবই কঠিন। একজন লাভবান চা ব্যবসায়ী হতে হলে আপনাকে একজন দক্ষ সেলসম্যান হতে হবে।

অনেকে হয়তো আপনাকে হিসাব দিতে পারেন এরকমভাবে যে, আপনি যদি দিনে ৫০ টি দোকানে ১ কেজি করে চা বিক্রি করতে পারেন আর প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা লাভ করতে পারেন, তাহলেই আপনার দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা লাভ। কিন্তু আসলে ব্যাপারটা এত সহজ না। আর ব্যবসায় চাকরির মতো বাঁধাধরা অঙ্কের টাকা পাবেন না। ব্যবসাতে লাভ-ক্ষতি থাকবেই। তবে হ্যাঁ, সফল ব্যবসায়ীরা তাদের মেধা ও শ্রম দিয়ে লাভের অঙ্কটাই বড় করে তোলেন।

আপনি যখন নতুন চায়ের ব্যবসা করবেন, তখন আপনাকে সবগুলো চায়ের দোকানে গিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। আপনার যদি চা পাতা কেনার আগেই তাদের চা সম্পর্কে ধারণা থাকে, তাহলে তো সুবিধাই হবে। আপনি আপনার ক্রয়কৃত চা ওইসব দোকানে নিয়ে দেখাবেন। আপনার চা যে গুণগতভাবে উত্তম এবং মূল্যের দিক থেকে সাশ্রয়ী(শুরুর দিকে সেটা অবশ্যই করতে হবে), সেটা তাদের বোঝান। আপনি যদি শুরুতে ৩০ টি দোকানেও চা সরবরাহের বন্দোবস্ত করতে পারেন, সেটাও অনেক। আর আপনাকে অবশ্যই চায়ের মান ভালো রাখতে হবে। কারণ, কোনো চায়ের দোকানি আপনার খারাপ চায়ের জন্য তার কাস্টোমার হারাতে চাইবেন না।

এভাবে ধীরে ধীরে আপনার ব্যবসা প্রসারিত করার চেষ্টা করুন। শুরুর দিকেই আপনি লাখপতি হয়ে যাবেন, এরকম ভাবাটা ঠিক না। শুরুর দিকে আপনার লাভ হয়তো খুব বেশি হবে না। কিন্তু হাল ছেড়ে দিবেন না। প্রত্যেকদিনের চেয়ে তার পরেরদিন আরো বেশি লাভ করার চেষ্টা করে যাবেন। সৎভাবে লেগে থাকতে পারলে আপনি অবশ্যই সফল হবেন ইনশাআল্লাহ।

চা পাতার ব্যবসার প্রসার ও ব্র্যান্ডিং

কথায় আছে, “টাকায় টাকা আনে।” কথাটা ব্যবসার ক্ষেত্রে খুব সত্য। আপনি ব্যবসাতে লাভ করতে থাকলে আপনার অতিরিক্ত লাভ থেকে ব্যবসার ক্ষেত্র বাড়াতে পারেন, যেটা আপনাকে আরো বেশি লাভ করতে সাহায্য করবে। এভাবেই হয়তো আরো কিছু করতে পারবেন আপনি।

ধরে নিচ্ছি, আপনি খুচরা চা ব্যবসায় অনেক ভালো করছেন এবং আপনার মাসিক লাভ ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বেশ আগেই। আর আপনি যথেষ্ট সঞ্চয়ও করেছেন। তাহলে কি এটা নিয়েই সারাজীবন কাটিয়ে দিতে চান? নাকি স্বপ্ন দেখেন আরো বড় কিছু করার? মনে রাখবেন, কোনো ব্যবসাই ছোট নয়। আজকের দেশের অন্যতম বড় গ্রুপ “আকিজ গ্রুপ” এর সূচনা কিন্তু হয়েছিল সামান্য বিড়ি তামাকের ব্যবসা দিয়ে।

যদি আপনার সামর্থ্য থাকে আপনি একে একে বিডার, ব্রোকার, চা বাগানের মালিক, এমনকি চা প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক হতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অনুসরণ করতে হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সফল ব্যবসায়ীদের দিকে। আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা বলেছেন, “আমরা সবচেয়ে লক্ষ্য রাখি আমাদের কাস্টোমারদের প্রতি, তারপর কর্মচারীদের, তারপর মালিকপক্ষ।” আর এটাই হওয়া উচিত ব্যবসায়ীদের মূলমন্ত্র।

চা পাতার ব্যবসার ঝুঁকিসমূহ

ব্যবসায় নামার আগে যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলার মনমানসিকতা নিয়ে নামতে হবে। চা ব্যবসাতেও রয়েছে অনেক প্রকার ঝুঁকি। সফল চা ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যর্থ ব্যবসায়ীদের সংখ্যাটাও কম নয়। বরং অনেকেই ব্যর্থ হয়।

চা পাতার ব্যবসা অনেকটাই নির্ভর করছে চা বিক্রির উপর। শীতের দিনে যেভাবে চা বিক্রি হয়, গরমের দিনে স্বভাবতই চা বিক্রি হয় তার তুলনায় অনেক কম। তারপর আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা, যখন দোকানই খোলা কষ্টকর। হরতাল, লকডাউনসহ নানা রকম জটিলতায় ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে আপনার ব্যবসা।

অনেক সময়ই চা বিক্রেতারা নানা অভিযোগ করতে পারে আপনার কাছে। বলতে পারে যে, চা এর গন্ধ ভালো না, কিংবা চায়ের রং অতিরিক্ত কালো। হয়তো সে কম মূল্যে অন্য চা পাচ্ছে। এসব ব্যাপারও সামাল দিতে হতে পারে।

আবার চায়ের অকশনেও প্রায়ই দাম ওঠানামা করে। এগুলোও চা বিক্রির লাভের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে। এরকম আরো অনেক অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটতে পারে। এতে হতাশ হবেন না। ধৈর্য্যধারণ করতে হবে এবং ব্যবসায় নতুন উদ্যোক্তারা ঝড়ে পড়ার কারন জেনে নিতে হবে। যদি অন্য ব্যবসায়ীরা এ পথ থেকেই সফল হতে পারে, ইনশাআল্লাহ আপনিও সফল হবেন। সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যেতে হবে।

শেষ কথা

চা পাতার ব্যবসা বাংলাদেশের রপ্তানিখাতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখা খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। আপনি অপেক্ষাকৃত কম পুঁজিতে চা পাতার ব্যবসা শুরু করতে পারেন। ধীরে ধীরে এই খাত আরো প্রসারিত হচ্ছে। আপনি নিজেও হতে পারেন দেশের সেই উন্নয়নের অংশীদার।

সঠিক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম দ্বারা এই চা ব্যবসার দ্বারা ঘুরে যেতে পারে আপনার ভাগ্যের চাকা। যদি সত্যিই এই ব্যবসায় নামতে চান, তাহলে আর দেরি কেন? নেমে পড়ুন আপনার লক্ষ্য অর্জনে; হয়ে ওঠুন অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী।

Facebook Comments

Share The Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *