March 13, 2020 কেন চা পাতার ব্যবসায় নতুন উদ্যোক্তারা ঝড়ে পড়ে.?

কেন চা পাতার ব্যবসায় নতুন উদ্যোক্তারা ঝড়ে পড়ে.?

Share The Post

আস্সালামুআলাইকুম, কেমন আছেন সবাই..? কমেন্ট এ জানাবেন অবশ্যই। সময়ের অভাবে তেমন পোস্ট দিতে পারিনি। আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা নিয়ে আসলাম কেন চা পাতার ব্যবসায় নতুন উদ্যোক্তারা ঝড়ে পড়ে.? সবার মাঝে আশাকরি পুরোটাই পড়বেন। আপনারা হয়তো জানেন এই সিজেন – ২০১৯ এ চা পাতার ফলন অনেক হয়েছে। তাই মার্কেট ও অনেক কম্পিডিশন হয়ে গেছে। সেই কারনে চা পাতার ব্যবসার মধ্যে অনেক ঝুকি চলে এসেছে।

কি রকম ঝুকি সেটা যারা মার্কেট এ চা পাতা নিয়ে কাজ করে তারাই ভাল জানে। তবে তাই বলে কি ব্যবসা বন্ধ করা যায়.?? অবশ্যই যায় না। এগুলো সকল ঝামেলা সামলিয়ে যারা মার্কেট এ টিকে থাকবে তারাই আসল ব্যবসায়ি। এখন এই ব্যবসার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলবোঃ

• ০১. আপনি যদি নতুন চা পাতা ব্যবসায়ি হোন অথবা হওয়ার জন্য ইচ্ছে পোষন করেন, তাহলে অবশ্যই ভাল মানের চা পাতা ও ভাল দামের চা পাতা দিয়ে শুরু করবেন। কারন প্রথমে বেশি লাভ করতে গেলেই পুজি হারিয়ে বসবেন।


• ০২. এবার কোন কোম্পানির কাছ থেকে ভাল দামে ভাল মানের চা পাতা কিনে মার্কেট এ বিক্রি করতে গিয়ে অবশ্যই আপনার মন খারাপ হবে। কারন দেখবেন আপনি যে রেট এ চা পাতা কিনছেন সেই রেট এ বা তার চেয়ে কম দামে অন্যরা চা পাতা দোকানে বিক্রি করছে। তাহলে মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া কিছুই নেই। অপেক্ষা করুন এর উত্তর নিচে পেয়ে যাবেন।


• ০৩. অনুমোদনহীন ও নামে বে-নামে চা পাতার প্যাকেট এ ছড়া-ছড়ি বাজার। ব্যবসা করার আগে ৫/৬ টা কোম্পানির চা পাতার নাম শুনেছেন। যখন মার্কেট এ আপনার চা পাতা বিক্রি করতে যাবেন তখন দেখবেন শত শত ব্রান্ড মার্কেট এ আছে। কোনটা বৈধ আবার কোনটা অবৈধ। তবে অনেক সময় ভ্রাম্যমান আদালত এগুলো মনিটরিং করে এবং জরিমানা /জেল বা উভয়েই শাস্তি দেয়।
এসব নিয়েই আজকের মুল আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্ উপরের ৩ টি বিষয়ের উপর এখন বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।

উপরের ৩ টি কথার উত্তর নিচে প্রদান করছি, আশাকরি ভালভাবে পড়বেন


1. আপনি নতুন ব্যবসায়ি হলে অবশ্যই মার্কেট যাচাই করে চা পাতা পাইকারী দামে ( ডিলার মূল্যে) ক্রয় করবেন। কারন চা পাতা এমন একটি পণ্য যেটি সারা বছর সমান ভাবে চলে। এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন দামে চলে। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন চা চলে। কোন অঞ্চলে কোন চা চলে তা এখানে ক্লিক করে পড়ে নিতে পারেন। এখন আসল কথায় আসি… ভাল মানের চা বলতে কি বুঝায়.? অনেকেই ফেসবুকে/ফোনে/ওয়েব সাইট / ইউটিউব এ লিখে থাকে বা বলে থাকে খুবেই কম দামে ১০০% গ্যারান্টি সহকারে কম দামে ভাল মানের চা পাতা হোলসেল দেই। তাহলে বুঝে নিবেন কথায় ঠিক থাকলেও কাজে ঠিক নেই। হয়তো ২/৩ চালান আপনাকে কমদামে চা পাতা পাবেন ভাল, তারপর এমন কোপ দিবে, আপনি মার্কেট থেকে ছিঁটকে পরার সময় পাবেন না। একদমেই আপনার ব্যবসাকে নষ্ট করে দিবে। তাই আপনাদের জন্য আমার পরামর্শ রইলো যে আপনি প্রথম থেকেই বেশি দাম দিয়ে ভালমানের চা পাতা ক্রয় করে বিক্রি করবেন। এবং ব্যবসার শেষ সময় পর্যন্ত তা করবেন। তাহলে মার্কেট এ বেশি সময় টিকে থাকতে পারবেন। আর বেশি সময় টিকে থাকতে পারলে অবশ্যই সফলতা পাবেন। তবে একটা কথা না বললেই নয়… ব্লেন্ড করার সময় কেউ আপনাকে আগের ব্লেন্ডের মত দিতে পারবেন না হয়তো ১৮/২০ বা ১৯/২০ হবে। আর যদি দেখেন ১৫/২০ তাহলে অবশ্যই বুঝে নিবেন এই কোম্পানির সাথে ব্যবসা করা যাবে না। আপনি অন্য কোম্পানী খোজার চেষ্টা করবেন।


2. দুই নাম্বার কথাটি ছিল আপনার কেনা দামের থেকে ২০/৪০ টাকা কম দামে মার্কেট এ অন্যরা চা বিক্রি করতেছে। মাথায় হাত দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না তখন। এবার ইতিহাস বুঝিয়ে বলি…. ধরুন আপনি কোন কোম্পানির কাছ থেকে চা পাতা কিনতেছেন ২৯০/- টাকা (প্রতিকেজি) করে। মার্কেট এ যখন চা পাতা বিক্রি করতে যাচ্ছেন তখন দেখবেন যে ২৬০/- কেজিতে অন্যরা চা পাতা দোকানে দিচ্ছে। তাহলে তো মাথা গরম হওয়ার কথা। আসলে হট হওয়ার কিছু নেই, আপনি ঐ ডিলারকে মনে মনে চিনে রাখবেন। আর ১৫ দিন পর দেখবেন আপনার মনে মনে চেনা ডিলারটি মার্কেট এ নেই, কারন কেন জানেন.??? কারন ওনি বেশি লাভের আশায় কম রেট এ চা পাতা কিনে বাজারে বিক্রি করেছে, খারাপ রিপোর্ট হয়েছে, দোকানি না করে দিয়েছে ওনাকে। তার মানে ওনার দরজা বন্ধ হলো, হয়তো আর ওনি কখনই চা ব্যবসা করতে পারবে না। আর এর মধ্যেই ওনি কিন্তুু পুজিও হারিয়ে ফেলেছে। ঠিক সেই মহুর্তে আপনি আবার ঐ দোকানে আপনার চা পাতা সেল করতে শুরু করলেন। আপনার চা পাতা ভাল মানে ও ভাল দামে হওয়ায় আপনি ভাল রেজাল্ট পাওয়া শুরু করলেন… এভাবেই আপনি ভাল মত ব্যবসা করতে পারবে। আর তাছাড়া যে সিজনে চা বেশি উৎপন্ন হয় সেই সিজনে মার্কেট লেবেল এ হকার এর উদ্রব বেশি হয়। কারন চায়ের দাম কম থাকে, যখন চায়ের দাম বেড়ে যায় তখন দেখবেন মার্কেট এ হকার নেই। তখন ব্যবসা করে মজা পাবেন। আর হকার নেই বাংলাদেশে এমন কোন খাদ্যপণ্যের মার্কেট নেই এটা গবেষনা করলেই বুঝবেন। তার পরেও বলি যদি আপনার চায়ের মান ভাল হয় তাহলে এর মধ্যেই ব্যবসা করতে পারবেন।


3. মাঠে নামার আগে আপনি মনেহয় জানতেন যে মনে হয় বাংলাদেশে চা পাতার ব্যবসায় তেমন লোক করে না, আর মাঠে নেমে দেখেন যে চা পাতার ব্রান্ডিং অনেক। তখন একটু চিন্তায় পড়ে যাবেন। কারন কিছু অসাধু ব্যবসায়ি আপনাকে বা অন্যকে ঠকাচ্ছে। কারন অনুমোদনহীন অনেক পলিব্যগ ঢাকার চকবাজার এর পাইকারি বাজার এ পাওয়া যায়। যেগুলোর মধ্যে বিএসটিআই লোগোও দেওয়া আছে। কিন্তুু সেগুলো আসল না। শত শত ফয়েল পলি আছে, যেগুলো একদম বে-আইনি। তাই এসব প্যাকেট নিয়ে ব্যবসা করলে আপনি যেকোন সময় আইনের আওতায় আসতে পারেন। এদের মধ্যে কিছু আপনাদের চেনা ফয়েল প্যাকেট এর নাম বলছিঃ টাইম টি, টাটকা টি, তাসিন টি, মিয়াজীপূরী টি, স্যাভরোন টি, রাজধানী টি সহ অনেক পলি।


পরিশেষে এতটুকু বলতে পারি আপনি যে কোন ব্যবসায় নামেন না কেন আপনি দেখে শুনে বুঝে গবেষনা করে ব্যবসায় জড়াবেন। তাহলে আপনার আইডিয়া চলে আসবে। আর চা পাতার ব্যবসা হলো দির্ঘমেয়াদী ব্যবসা ও বেশি পূজির ব্যাবসা। যদিও অনেকেই বলে কম পূজির ব্যবসা হলো চা পাতার ব্যবসা, কিন্তুু আমি বলতেছি বেশি পূজির ব্যবসা হলো চা পাতার ব্যবসা….. এই কথাটি প্রমান করতে পারবেন তারাই, যারা ইতিমধ্যে চা পাতার ব্যবসার সাথে জড়িত।

আপনাদের জন্য আমার পরবর্তী পোস্ট লিখবো চায়ের খোলা বাজার, চায়ের পাইকারি মার্কেট নিয়ে। সবাইকে পড়ার আহব্বান রইলো।

আল্লাহ্ হাফেজ।

Facebook Comments

Share The Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Call Now Button